Home লাকী রজব • আলো ছায়া : পর্ব-৮

আলো ছায়া : পর্ব-৮

13626437_1058507357538318_2872922405917731184_n

পরদিন সকালবেলা টিলার নিয়ে জমিতে যাবার জন্য রাস্তায় বের হলাম। লিমাও আমার পেছন পেছন কলেজে যাবার জন্য বের হল। একবার পেছন ফিরে তাকাতে তার চোখে চোখ পড়ল। কি যেন বলতে গিয়েও তার মুখের ভাষা আটকে আসল। তার মায়াবী চোখের অপলক চাহনি আমাকে চুম্বকের মত আকর্ষণ করছে। টিলারের ষোল হর্সের ইঞ্জিন আমাকে বেশিদুর টেনে নিয়ে এগেতে পারলো না। তাই মেশিনের পাওয়ার বারানোর জন্য থামালাম। আসল উদ্দেশ্য যে কি সেটা আমার অর্ন্তযামীই জানেন। পাওয়ার বাড়াতে গিয়ে কমিয়ে দিলাম। তবুও যখন সে বোরখাপড়া ভদ্রমহিলাটা আমার পাশ কেটে আগে চলে গেল, গাড়ি তখন এমনিতেই এগোতে লাগল। স্বপ্নাদের বাড়ির সামনে স্বপ্না বাড়ি থেকে বের হল। ওদের বাড়িটা মূল রাস্তা থেকে একটুর ভিতরে। সে রাস্তায় এসে আমাকে লিমাকে প্রায় পাশাপাশি যেতে দেখে বেশ জোর গলাতেই বলল,
-এই পোড়ামুখী সেদিন বলে এমনিতেই হাসছিলি, আজ যে এক সাথে গল্প করতে করতে আসছিস আজ তোর নাকে লজ্জা লাগছ না?
-আমার নাকটি মেকাবে ঢেকে রাখছি, তাই লজ্জা করছে না।
-তা করবে কেন, ড্রাইভার সাহেব তো আর মন্দ না।
তখন আমি আমার মনের সবটুকো সাহস জোগাড় করে বললাম,
-এই মেডামরা আমি কোন সাহেব না, সামান্য একজন ডাইভার মাত্র।
স্বপ্না আরো কিছু বলতে যাচ্ছিল কিন্তু নিকটেই হান্নান মিয়াকে আসতে দেখে কলেজে চলে গেল। আমি লিমার দিকে একদৃষ্টে তাকিয়ে রইলাম। ইঞ্জিল খুব ধীরে ধীরে চলছেই। হান্নান এসে আমাকে পেটের মধ্যে খোঁচা মারল,
-কি মিয়া কার ধ্যানে পড়ছো?
আমি প্রসঙ্গ উল্টিয়ে বললাম,
-এত দেরি হল কেন আসতে, আজ এই জমিটা শেষ করতেই হবে।
-জিজ্ঞাসা করলাম কি আর উত্তর পেলাম কি।
আর কথা না বলে জমি চাষ দিতে লাগলাম। দুপুরবেলা দম নেওয়ার সময় হান্নান মিয়া বলল,
-শোন ভাই, এ দুুনিয়ায় খালি ছলনা আর প্রতারণা। কারে ঠকিয়ে কে বড় হবে সবার খালি এক চিন্তা। শোনরে ভাই , দুনিয়াটা বড়ই কঠিন জায়গা। এর মধ্যে মানুষ কল্পনা করে একটা, বাস্তবে হয়ে যায় আরেকটা।
এ পর্যন্ত বলে সে থামল। এ কথাগুলো মায়ের পেট থেকে পড়েই শুনতে শুনতে কান ঝালাপালা হয়ে গিয়েছে। তবুও আজ হান্নান মিয়ার কথাগুলো তাৎপর্যপূর্ণ মনে হল। ভাবলাম,
লোকটা মুর্খ হলেও এসব ব্যাপারে জ্ঞানী। হান্নান আবার বলল,
-আমি ভাই আমার জীবনে মাত্র দুই দিন করিমগঞ্জ প্রাইমারি স্কুলে গেছিলাম। তারপর বাবা মারা গেলে লেখাপড়া করে দুনিয়া পাশ দিয়ে এই মাঠ কলেজে নামছি। আমার ভাই লেখাপড়া করা মেয়েদের বিশ্বাস হয় না। তুমি কি ভাই লেখাপড়া কিছু করছো না আমার মত দুনিয়া পাশ?
-করেছি কিছুটা।
-তাহলে তো ভাই কিছু বোঝো। ভাইরে আমার জীবনের একা অংশ ছিনায়ে নিয়ে যে পাষাণী পালায়েছে সে শুধু লেখাপড়ার দেমাগে। তাইরে ভাই লেখাপড়া করা মেয়েদের করা মেয়েদের আমার বিশ্বাস হয় না।
কথাগুলো বলতে বলতে তার চোখের কোণায় আবেগে দু-ফোটা জল টলমল করে উঠল। বুঝতে পারলাম, এটা এই মাঠে খাটা সরল সোজা একটা প্রাণের হৃদয় নিঙড়ানো আহাজারি। অনেকটা আন্তরিকতার সুরে বললাম,
-কি ভাই, কোন পাষাণী আপনার জীবনের অর্ধেক নিয়া পালিয়েছে? খুলে বলেন। 

পর্ব- ৯

Author:luckyrazob

Leave a Reply