Home লাকী রজব • আলো ছায়া : পর্ব- ৬

আলো ছায়া : পর্ব- ৬

13754208_1055102794545441_3706917146351479274_n

পরেরদিন সকালবেলা রাস্তার পাশের জমিটাতে টিলার নিয়ে গেলাম। এখানে চাষ দিতে সময় লাগল অনেক বেশি। কারণ, রাই-এর গোড়া জড়িয়ে কিছুক্ষণ পর পর টিলারের ফল জাম হয়ে যায়, মেশিন উঁচু করে ছাড়াতে হয়। এতে পরিশ্রম হয় অনেক বেশি। আব্বাস এজন্য একজন কামলাকে আমার সাথে দিয়েছেন। লোকটার সব দিকেই বিবেচনা আছে। বেলা দুটার দিকে হান্নান মিয়া একজগ পানি আনল। আমি মেশিন বন্ধ করে পানি খেয়ে তালগাছের নিচে বসে দম নিতে লাগলাম। সে খানিক দূরে টিলার থেকে আবজর্না ছাড়াচ্ছে। উত্তর দিকে তাকিয়ে দেখলাম বোরখাপরা দুটি মেয়ে কলেজ ব্যাগ কাধে রাস্তা ধরে হেটে আসছে। আমি একবার তাকিয়ে চুপ করে বসে রইলাম। কাছে আসতে আবার তাকাতে চিনতে পারলাম, প্রামাণিকের মেয়ে, আরেকটি মেয়ে চিনি না। সে মেয়েটি প্রামাণিকের মেয়েকে জিজ্ঞাসা করল,
-কিরে লিমা তোদের বাড়ি আবার নতুন ড্রাইভার আসছে নাকি?
-হ্যা, এই ড্রাইভারে গতকাল আমার ফুলের গাছগুলো গরুর হাত থেকে বাঁচিয়েছে। নয়তো আমার একটা গাছও আর থাকে না।
-তাহলে গাছে ফুল ফুটলে, কৃতজ্ঞতা স্বরুপ ফুল গিভড দিবি।
বলতে বলতে তারা আমার নিকট চলে আসল। লিমা তার প্রতি তার প্রতি রাগ দেখিয়ে বলল,
-তোর মুখে যা আসে তাই বলিস, তোর মুখের লিমিটেশন নাই।
আমি ঘুরে তাকাতে লিমার চোখে চোখ পড়ল। সে মুখ টিপে হেসে উঠল। আমি তখনই বুঝতে পারলাম, এ হাসিটা তো বড় ভাল নয়। কারণ, তা হযম করার মত শক্তি আমার নাই। এ আমার পেটে গিয়ে ইনফেকশন করবেই করবে! ও মেয়েটি বলল,
-হাসলি কেনরে ইডিয়েট?
-এমনেই।
-এমনিতেই আবার কেউ হাসে, হু: তাই আবার।
বলতে বলতে তারা চলে গেল। অবশ্য গরুটা ধরতে আমার উৎসাহ বেশি থাকলেও আব্বাস মিয়ার ভুমিকা ছিল বেশি। তবুও কেন যে সে আমাকে এমন রাস্তাঘাটে প্রশংসা করল তা একমাত্র উপরওয়ালাই জানেন।
আমার নিজের শরীরের দিকে তাকিয়ে বমি বমি ভাব হল! সারা গায়ে হাফ ইঞ্চি পুরু হয়ে ধুলো জমেছে। আজ প্রায় দুই মাস সেলুনের দোকানের সঙ্গে যোগাযোগ নাই। তাতে আমার চেহারাটা যা হয়েছে, একজন প্রথম শ্রেণীর পাগল অপেক্ষা ভাল না হলেও মন্দ না। তাইতো প্রামাণিকের স্ত্রী সেদিন আমকে দেখে সতর্ক থাকতে বলেছিলেন। ভাবলাম, বেতনের টাকা পেলে আগে নাপিতের সাক্ষাৎকার নেব। হান্নান মিয়া ডাক দিল,
-ডাইভার ভাই আসেন, বেলা পড়ে গেল।
কাছে গেলে বলল,
-প্রামাণিকের মেয়েরা কি বলল?
আমি বললাম,
-কারা প্রামাণিকের মেয়ে?
সে রসিকতা করে বলল,
-আরে মিয়া, বাইশ বছর ধরে চেয়ারম্যানি করে থানার বরান্দা চিনলা না।
তার কথাটা হাসি দিয়ে হযম করলাম। সে আপনা আপনিই বলল,
-ঐ যে পূর্ব পাশে হাটছে ওটা আমারে মালিক সলমান প্রামাণিকের মেয়ে, নাম লিমা। আর পশ্চিমেরটা ওর-ই ভাই সানা প্রামাণিকের মেয়ে, নাম স্বপ্না। দু-বোনে গত বৎসর মেট্রিক পাশ করে কলেজে ভর্তি হয়েছে। আমারে পাড়ায় ওদের উপরে কেউ লেখাপড়া করে না। দেখতে শুনতেও ভালই।
সে এসব বলতে বলতে আমি মেশিন স্টার্ট করে ফেললাম। সে চুপ করে গেল। আছরের আযানের সময় জমি চাষ শেষ করে বাড়ি ফিরলাম। আসার সময় প্রামাণিকের সাথে দেখা হল। রাতে বিছানায় শুয়ে আজকের দিনের কথাগুলো চিন্তা করতে লাগলাম। কি অসীম রহস্যই না রয়েছে স্বপ্নার, হান্নান মিয়ার কথায়। তাদের কথার রহস্যের সাগরে সাঁতরে থাই পেলেও লিমার মুখ টিপে হাসার রহস্যের সাগরের আর কুল কিনারা পেলাম না। সাঁতড়াতে সাঁতড়াতে নিদ্রাদেবী আমাকে তার স্নেহের কোলে তুলে নিলেন। 

পর্ব- ৭ 

Author:luckyrazob

One response to  “আলো ছায়া : পর্ব- ৬”

Leave a Reply