Home লাকী রজব • আলো ছায়া : পর্ব- ৫

আলো ছায়া : পর্ব- ৫

13775595_1053291064726614_3503810751610242109_n

সকালবেলা উঠে আব্বাস মিয়ার সঙ্গে টিলার নিয়ে জমিতে গেলাম। সে আমাকে পুরো জমিটা একবার চাষ দিতে বলল। আর বলল,
-নাস্তার বেলা শরিফ ভাত নিয়ে আসলে ভাত খেয়ে নিবা। তারপর চাষ দেয়া হলে বাড়ি গিয়ে গোসল খাওয়া দাওয়া করবা।
-তারপর?
-তারপর আজ আর কিছু করতে হবে না। এখন আমি ওই রাস্তার কাছের জমিতে কামলা নিয়ে যাচ্ছি রাই কাটতে। কাটা হলে, কালকে ওই খেত চাষ দিবা।
-এ খেত এখন চাষ দিয়ে কি করবেন?
-এটা মেঘ হয়ে জো ধরলে পাট বুনব। আর ওটা চাচারে জিজ্ঞাসা করে দেখি কি বলে। মেঘ যে কখন হয় তাতো আর বলা যায় না, তাই আগে থেকে চাষ দিয়ে রাখা।
এইসব বলে সে চলে গেল। আমি ফাল ঠিক করে চাষ দিতে লাগলাম। নয়টার দিকে শরিফ ভাত নিয়ে আসল। বারটার দিকে আমার চাষ দেয়া হয়ে গেল।
বাড়িতে এসে দেখলাম সাহেরা গরম ভাত রান্না করেছে। সারা বছর তাই করে। আমি খাওয়া দাওয়া করে ঘরে গিয়ে জানালা খুলে দিয়ে শুলাম। বিশাল মাঠ থেকে আসা শুষ্ক বাতাসে আমার ঘুম এসে গেল। শরিফের বই রাখার শব্দে ঘুম ভাঙল, উঠে দেখি আছরের আযান পড়ছে। একটু চিন্তা হল, আব্বাস মিয়া না জানি কি-ই বা ভেবেছেন। কিন্তু না, কিছুক্ষণ পর সে বাড়ি এসে হাসিমুখেই কথা বলল। হাত মুখ ধুয়ে আসলাম। শরিফের খাওয়া হলে তার বাবা বলল, পালা থেকে গরুর জন্য খড় খসাইয়া আনতে। আমি তার সঙ্গে গেলাম। এক পাঁজা করে খড় নিয়ে গরুর গোড়াতে দিলাম। আব্বাস মিয়া গরু গুলোকে পানি খাওয়াচ্ছিল। হটাৎ একটা এঁড়ে গরু হাত থেকে ফসকে গেল। দেখতে না দেখতে গরুটি প্রমানিকের বাড়ির ভিতর ঢুকে গেল। বাড়ি দুটো বেশি দূরে নয়। শরিফদের বাড়ির পূর্বে খড়ের গাঁদা, গেয়াালঘর, উঠান, তারপর প্রামণিকের বাড়ি-ঘর। আমরা সবাই গরুটার পেছন পেছন বাড়ির ভিতর ঢুকলাম। আমি অবশ্য তাদের পিতা-পুত্রের যাবার কিছুক্ষণ পর গেলাম। এ বাড়িতে এর আগে ঢুকিনি। ছাদ দেয়া একতলা বিল্ডিং ঘর দক্ষিণ, পূর্ব, উত্তর তিনপাশে আর পশ্চিমে রান্নাঘর। আর বাকিটুকো একরকম বেড়া দেওয়া। সদর রাস্তা থেকে বাড়িতে আসার জন্য পূর্ব পাশে ঘরের ভিতর দিয়ে গেট আছে। পশ্চিম পাশ দিয়েও একটা গেট আছে, ওখান দিয়েই গরুটা ঢুকেছে। বাড়ির ভিতর এক কর্ণারে কতক গুলো ফুল গাছের একটি বাগান। গরুটা সেখানে গিয়ে গাছগুলো খেতে লাগল। তা দেখে একটি মেয়ে ঘর থেকে চেঁচিয়ে বের হয়ে আসল। শরিফ, দাদা বলে ডাকতে লাগল। আমাকে যেতে দেখে অপ্রতিভ হয়ে গেল। ইতিমধ্যেই গরুটা দু-তিনটি গাছ তুলে ফেলেছে। গরু তাড়ার শব্দ শুনে রহমত আলীর মা, বউ আসল। তারাও এসে হৈ চৈ জুড়ে দিল। গরুটার সামনে অবশ্য শরিফের বাবা ব্যতিত আর কেউ এগিয়ে সাহস পাচ্ছে না। আমি অনেকটা গুতো খাবার ঝুঁকি নিয়েই গরুটা ধরে ফেললাম। তা দেখে সে মেয়েটি, মেয়েটি বললে কেমন যেন শোনায়, কারণ তার নামটি আমার প্রথম শোনাতেই আমার মনে জায়গা করে নিয়েছে। বলল,
-ডাইভার ভাই আমার ফুলগাছ গুলো বাঁচালেন, আপনারে ধন্যবাদ।
ইস! যে গুতোটি গরুর কাছ থেকে গায়ে লাগার কথা ছিল, তা এসে লাগল আমার ছন্নছাড়া বাঁধনহারা মনে। 

পর্ব- ৬ 

Author:luckyrazob

Leave a Reply