Home লাকী রজব • আলো ছায়া : পর্ব- ৪

আলো ছায়া : পর্ব- ৪

13716231_1052445708144483_2500217758002465577_n

পরদিন ফরসা হলে ঘুম থেকে উঠলাম। কিছুক্ষণ পরে সুর্যদেব পূর্ব গগনে আগুন লাগিয়ে দিয়ে উকি দিল। তার এই কচি মূর্তিতেই সারা দিনের প্রখরতা হাজারো রশ্নিতে প্রকাশ পাচ্ছে। সাহেরা বলল,
-আজ যে রোদ উঠবে, একবারে পুড়িয়ে ফেলবে।
আব্বাস মিয়া শরিফকে বলল,
-আমি কামলাদের নিয়ে খেসারি খেতে যাই, একটু পরে গরু গুলো নিয়ে ওখানে আয়।
আমাকে বলল,
-তুমিও আসো শরিফের সাথে, দেখে আসবানে সব।
-আচ্ছা আসবনে।
কিছুক্ষণ পরে আমি শরিফ কতগুলো গরু তেড়ে নিয়ে খেসারি খেতে গেলাম। দু-পাশের জমিতে চৈতালি ফসল। মাঝখান দিয়ে রাস্তা। এ দিয়ে মানুষ গরুর গাড়ি, কলের লাঙ্গল নিয়ে জমিতে যায়। প্রামাণিকের প্রায় ছয় বিঘার মত জমিতে খেসারি বোনা। আশেপাশের সবার জমিতেও তাই। আমি, শরিফ ঘুরে ঘুরে প্রামাণিকের প্রায় সব জমি দেখে নয়টার দিকে বাড়ি ফিরে আসলাম। আব্বাস মিয়া এসে কামলাদের ভাত নিয়ে গেল। শরিফ স্কুলে গেল, সে করিমগঞ্জ হাটের পাশে প্রাইমারি স্কুলে ক্লাস ফাইভে পড়ে। দুপুরবেলা এক কলসি পানি নিয়ে কামলাদের নিকট গেলাম। তারা পানি খেয়ে দম নিতে নিতে অনেকের সঙ্গে আলাপ পরিচয় হল। বিকাল বেলা বোঝা বোঝা খেসারি মাথায় নিয়ে বাড়ি ফিরল। শুকালে সেগুলো মলতে হবে। এর জন্য প্রামাণিকের রয়েছে দুই বিঘার বেশি প্রশস্ত উঠান। সন্ধ্যা খাওয়া দাওয়ার পর কিছুক্ষণ গল্প করলাম। ফাতেমা ক্লাস টু-তে পড়ে, বেশ চটপটে মেয়েটি। শরিফ ফাতেমা ও ঘরে পড়তে গেল। আমি কিছুক্ষণ পর শুতে গেলাম। ফাতেমা ও শরিফের পড়া দেখে আমার অনেক দিন আগের কথা মনে পড়ল, যখন আমি ইন্টারমিডিয়েটে পড়তাম আর বাড়িতে টিউশনি করতাম। তাদের পড়াতে অনেক ভুল হচ্ছিল, সে দিকে ভ্রুক্ষেপ না করে একপাশে শুয়ে রইলাম। শরিফ আমাকে ঘরে আসতে দেখে পড়ার গতিটা একটু শ্লথ করে দিল। ফাতেমার বিশ্বাস আমি তার পড়া কিছুই পারি না। আমাদের ঘরে কয়েকজন লোক ঢুকল। প্রামাণিকের স্ত্রী, ছেলে, তার বউ, সাহেরা সবাই। প্রামাণিকের স্ত্রী আমাকে দেখে চিনতে পারল
-ও তোমারেই ডাইভার রাখছে।
প্রামাণিকের ছেলে রহমত আলীর সঙ্গে কিছুক্ষণ আলাপ হল। সে করিমগঞ্জ হাই স্কুলের কেরানি শিক্ষক। তাদের একটি মেয়ে আছে, ফাতেমার সঙ্গে পড়ে। রহমত খুটিয়ে খুটিয়ে আমার অতীত জীবন সম্বন্ধে অনেক কিছু জিজ্ঞাসা করল। আমি সরল ভাবেই জবাব দিলাম। শরিফ ফাতেমাকে ভাল করে পড়তে বলে চলে গেল। রহমত আলীর বউ আমাকে কিছু বলেনি, যাবার সময় শুধু বলল,
-থাকো ভাই।
বাইরে গিয়ে রহমত আলীর মা সাহেরাকে ফিসফিসিয়ে বলল,
-রাতের বেলা একটু খেয়াল রেখো, কোন দেশের কে বা কেডা।
এর জন্য দায়ী আমার এলোমেলো চেহারা। সাহেরা বলল,
-না গো চাচী এই ছেলেটা তেমন না।
আমার যে সকল কথাগুলো বলতে হত তার বেশিটাই সাহেরা তাদের কাছে বর্ণনা করে দিয়েছে। তার হাবভাবে মনে হল, আমি তার পূর্ব পরিচিত এবং আমার ব্যাপারে আমার চেয়ে সেই বেশি জানে। বাতি নিভিয়ে শুয়ে পড়লাম। কাল ভোরে উঠে টিলার নিয়ে সেই খেসারি তোলা জমি চাষ দিতে যেতে হবে, আমার কাজ শুরু হবে।

পর্ব- ৫

Author:luckyrazob

One response to  “আলো ছায়া : পর্ব- ৪”

Leave a Reply