Home লাকী রজব • আলো ছায়া : পর্ব- ১

আলো ছায়া : পর্ব- ১

13621006_1049748798414174_37004281065467216_n

মানুষের জীবন কি? মানবজীবনে অর্থ সম্পদ প্রেম প্রীতির প্রভাব কি? এর সাথে মানুষের সম্পর্কই বা কি?

একাকী শান্ত নিরব পথে হাটছি আর এ প্রশ্নগুলোর জবাব খুজছি। এ প্রশ্নগুলো আজ আমার মনে কেন উদয় হল, তাও ভাবছি। হটাৎ করে নয়, স্বাভাবিক ভাবেই। হয়তবা এই নির্মল প্রকৃতির মধ্যে দিয়ে হাটার কারণে। আমার প্রশ্ন গুলোর কোনটারই জবাব প্রাঞ্জল নয়, নিরপেক্ষ সঠিক নয়। এর দার্শনিক ব্যাখ্যা আমার জানা নেই, আমার বিশ্লেষণও সঠিক নয়।

আচ্ছা, যাক সে কথা। ও নিয়ে আমার ভেবে কাজ নেই। আমি যে পথ ধরে হাটছি, এর কিছু চিরন্তন সাথী আছে। পথিক আসুক বা না আসুক বৃক্ষগুলো পথটাকে সঙ্গী করে রাখে। আমার তা-ও নেই। পথটি একটি বিলের মধ্যে দিয়ে। হয়তবা কোন কালে কোন সহৃদয়বান রাজনৈতিক নেতার কৃপা দৃষ্টিতে এটি মেরামত হয়েছিলো। বর্ষায় এ পথের উপর দিয়ে যে জল গড়ায় তা তার দিকে তাকালেই বোঝা যায়। এ পথটা কোনদিন দ্বিচক্রযান ব্যাতিত ত্রিচক্রযানের সাক্ষাৎ পেয়েছে বলে সন্দেহ হয়। কারণ, বেচারা পথের বক্ষ ততটা উদার নয়। দু-পাশ দিয়ে পানি, মৃদু মৃদু ঢেউ খেলছে। দূরে কতকগুলো হাস প্যাক প্যাক করে উঠল। আমার মনের মধ্যে কেমন যেন মোচড় দিয়ে উঠল। একটু জোড়পদে হাটতে লাগলাম। বিলের সীমানা ঘেষে একটা ব্রিজ। পাশেই দু-তিনটি দোকান। ভাবলাম রাতটা এখানেই কাটানো যাবে। একজন দোকানদারের সাথে আলাপ হল। পকেটে শেষ সম্বল কয়েকটা টাকা ছিল, তাতেই পেট কিছু ভাগ বসালো। সকালবেলা দোকানদারের টিনের ঝাপ খোলার শব্দে নিদ্রাদেবী বিদায় নিলেন। ছনের বেড়ার ফাঁক দিয়ে সূর্যের আলো এসে চোখে লাগল। ব্রিজের ওখানে এসে দেখলাম কয়েকটি ছেলে বড়শি দিয়ে পুটি মাছ ধরছে। দেখতে খুব ভালো লাগল। কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে দেখলাম। তারপর পূর্ব দিকে হাটা ধরলাম। রাস্তার দু-পাশে ঝোপের মত গাছ, সামনে পাহাড়ের মত উঁচু মাঝখান দিয়ে রাস্তা।
রাস্তার মোড় ঘুরে চোখে পড়ল, ঝোপের ভিতর একটি পুরোনো মন্দির। আশপাশে কুটিরের মত কিছু বাড়ি। সামনে উত্তর দিকে ধূ ধূ মাঠ। দৃষ্টির সীমানা পর্যন্ত মাঠ আর মাঠ। রাস্তা ধরে সেদিকেই হাটতে লাগলাম। চৈত্রের জ্বলন্ত দুপুর বেলায় মনে হল সূর্যদেব তার সবটুকো কিরণ নিয়ে আমার উপর ঝাঁপিয়ে পড়েছেন। রাস্তার দু-ধারে চৈতালি ফসলগুলো কৃষাণের অপেক্ষায় প্রহর গুণছে । কতক জমি থেকে ফসল তোলা হয়ে গিয়েছে, সেখানে গরু ছাগল বাঁধা আছে। কোন কোন জমিতে কৃষাণেরা খেসারি, মসুরী, রাই, গম কাটছে। কোথাও একটি ছেলে তাদের কাছে আসছে। এসব দৃশ্য দেখতে দেখতে চলছি। এ খর রোদ্রেও মনের মধ্যে একটু ভাল লাগল। শরীর থেকে ঘাম ঝরছে, তবুও ভাল লাগছে।
দূরে দু-তিনটি তালগাছ দেখতে পেলাম একটু ছায়া পাবার আশা জাগল। গাছতলায় এসে ঠা-া অনুভূত হল। এই কঠিন রোদ্রের কারণেই গাছের ছায়াটা এত ভাল লাগল। গাছগুলোকে আমার মতই নিঃসঙ্গ মনে হচ্ছে। এই রোদ্র পোড়া মাঠের মধ্যে গাছগুলোকে বড়ই অবাঞ্চিত সুন্দর দেখাচ্ছে। কয়েকটি ছেলে আমার দিকে একটু তাকিয়ে চলে গেল। উঠে হাটতে লাগলাম। অনেক দূরে বাড়ির মত হল। পিপাসায় কণ্ঠ তালু শুকিয়ে গেছে।

পর্ব- 2

Author:luckyrazob

Leave a Reply