Home লাকী রজব • আলো ছায়া : পর্ব- ১৯

আলো ছায়া : পর্ব- ১৯

14264884_1091644214224632_5560245859775794576_n

মেশিনের একটা পার্টসে সমস্যা হলে আব্বাস মিয়াকে জানালে সে প্রামাণিককে বলল। সকালবেলা মেশিন নিয়ে করিমগঞ্জ হাটে গেলাম। আব্বাস মিয়া সে পার্টসটা শহর থেকে কিনে আনতে গেল। আমি দোকানদারটার সাথে গল্প জুড়ে দিলাম। সে গল্পে ভীষণ পটু। গল্প করতে করতে মিল হয়ে গেলে টেনে নিয়ে চায়ের দোকানে বসালো। আমার বেশ ভূষাটা চা-স্টলের সঙ্গে না মিললেও মেকারটার সাথে ভীষণ মিলল। চা খেতে খেতে সে বলল,
-মিয়া, আমারে দুই দিন ভাত না দিলেও তোমার বাড়ি থাকতে পারব কিন্তু একবেলা চা না দিলে সেই দেশ ছাড়তে হবে।
হেসে বললাম,
-আরে ভাই, আমার একটা কুঠারিও নাই, আপনি আমার বাড়ি গিয়ে দুইদিন থাকলেন কেমন করে?
সেও হেসে বলল,
-তা না থাকে দেশটাতো আছে।
-আরে ওটাতো আরো নাই। যার বাড়ি গাড়ি টাকা পয়সা নাই তার আবার দেশ থাকে কেমন করে। ও গুলো তো দেশের আগাছা, দেশের মানুষের জঞ্জাল।
-তাহলে দেশের মানুষ কারা?
-আপনার মত টাকা পয়সা ওয়ালারা হলেন দেশের মানুষ আর আমার মত নিঃস্ব গরীবরা হল দেশের আগাছা।
কথাটা তাকে দিয়ে বললেও সে এর মর্ম বুঝতে পারল। বলল,
-আসলেই ভাই টাকা পয়সা না থাকলে জগতের কিছুই নাই। কি বন্ধু, কি সমাজ, কি দেশ সবই মিছে। টাকা ছাড়ালে সব হয়, টাকা ফুরালে সব ক্ষয়। দেশটাও তাই। যার ধন দৌলত, বাড়ি গাড়ি আছে দেশটা তারই দিকে।
চা খাওয়ার ব্যাপার নিয়ে ঠাট্টা করতে গিয়ে দেশের কথা উঠল, আর সেটাকেই টেনে নিয়ে জটিল দুর্বোধ্য আলাপের দিকে ধাবিত হচ্ছি ভেবে আমার উৎসাহ কমে আসলো। কিন্তু কাসেম মিয়া আমার দিকে উৎসাহভরা দৃষ্টি নিয়ে তাকিয়ে রইল। তার ইচ্ছা, এ নিয়ে আরো আলাপ করি। সেও বোধ হয় আমার মত দু-চারটে বাস্তবতার বেড়াজালে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে। আমি এবার বললাম,
-দেশের কত নেতা কত আইন করল আমাদের মত আগাছা গুলোকে জল যতœ দিয়ে সবল করে তুলতে যাতে করে দেশের সবাই মানুষের অধিকার পায়। কিন্তু শেষে হয় কি যারা বড় তারা আরো বড় হয় আর যারা আমাদের মত আগাছা তারা পররগাছা হতে বাধ্য হয়।
আমার এ কথা গুলো কাসেম ভাল বুঝতে পারলো না। বলল,
-আসলে ভাই, সবই ভূয়া।
-বলতে বলতে দু-তিনজন লোক প্যান্ট শার্ট পরা শিক্ষক গোছের দোকানে ঢুকল। তারা সবাই কাসেমকে চেনে। একজন বলল,
-কি ভাই সবই ভূয়া?
-ঐ তো একটা কথা বলছিলাম।
সে লোকটা আমাকে দেখে বলল,
-এনাকে তো চিনলাম না।
-ঐ সলমান প্রামাণিকের বাড়ির ড্রাইভার।
তারা দোকানের ভিতরে গিয়ে বসল। তাদের তিনজনের কিছুক্ষণ আলাপ শুনে বুঝতে পারলাম, তারা করিমগঞ্জ হাইস্কুলের শিক্ষক। কাসেমের কাছ থেকে শুনলাম, একজন প্রধান শিক্ষক, বাকী দু-জন সহকারী শিক্ষক। কিছুক্ষণ পর মোটরসাইকেলে চড়ে দুইজন লোক আসল। একজন মাঝবয়সী, স্কুলের সভাপতি অন্যজন শিক্ষক।

পর্ব- ২০

Author:luckyrazob

Leave a Reply