Home লাকী রজব • আলো ছায়া : পর্ব- ১৫

আলো ছায়া : পর্ব- ১৫

14100415_1082889838433403_367944506810087465_n

সেদিকে আর না তাকিয়ে মাঠে চলে গেলাম। জমি চাষ দিতে দিতে ভাবলাম,
লিমাও কি তাহলে আমাকে নিয়ে ভাবে? কিন্তু না, এ অসম্ভব। তার মত কলেজে পড়–য়া অপূর্ব সুন্দরী একটা মেয়ে কি করে আমার কথা ভাবতে পারে। তবে আজ সকালবেল শরিফদের বাড়িতে যাওয়া, প্রাইভেট ছুটি দেওয়া কেমন যেন মনে হল। এগারটার দিকে জমি চাষ দেওয়া হলে বাড়ি আসলাম। প্রামাণিকের উঠানে কামলারা হপার দিয়ে খেসারি মলছে। কিছুক্ষণ দম নিয়ে তাদের সাহায্য করতে এগিয়ে গেলাম। প্রচণ্ড রোদ গরমে সবার কাপড় ঘামে ভিজে গেছে। আমারও তাই হল। আমি কাজ করছি আর বারবার প্রামাণিকের বাড়ির দিকে তাকচ্ছি। সবাই রোদে খুব ক্লান্ত তাই কেউ এটা লক্ষ করল না। তবে দম দিতে বসে যখন আবার উত্তর দিকে তাকালাম, হান্নান মিয়া আমাকে একটু খোঁচা দিয়ে হেসে উঠল। আর কেউ এটা নিয়ে মাথা ঘামালো না। আমি কত বার যে উত্তর দিকে তাকিয়েছি তার হিসাব করা অসম্ভব কিন্তু একবারও সার্থক হতে পারিনি। কাজের লোকগুলো যারা আমাকে প্রথম আসার দিনে হীনভাবে দেখেছিল তারা আজ স্বাভাবিক চোখে দেখল। কারণ, সেলুনে গিয়ে আমার চেহারার পরিবর্তন ঘটেছে। তিনটার দিকে খেসারি মলা শেষ হল। গোসল সেরে পেটকে শান্ত করলাম।
ঘরে গিয়ে জানলা খুলে দিয়ে বিছানায় গা এলিয়ে দিলাম। ইচ্ছা সন্ধ্যা পর্যন্ত একটা ঘুম, রাতের স্বপ্নটা যদি সম্পূর্ণ হয় তাহলে আরও ভাল! চোখ দুটো কেবলই বুজে আসছে, ফাতেমা সুমাইয়া একবারে এসে কাক্কু কাক্কু বলে ডাকতে লাগল। একটু বিরক্ত হলেও উঠে বসলাম। সুমাইয়াকে বললাম,
– আম্মু গল্প কিন্তু শোনা হয়নি।
-গল্প বলতেই তো আসলাম, তবে একটা শর্ত আছে।
শর্তটা কি হবে তা আমি ভাল করেই জানি তবু বললাম,
-কি?
-আগে আমাদের একটা গল্প বলতে হবে তারপর আমরা গল্প বলব।
-না আজ তোমরা আগে আসছো, তোমাদেরটা আগে শোনা হবে।
সুমাইয়া বলল,
-তুই বলবি, না আমি?
-তুই-ই বল।
সুমাইয়া একটু তোতলিয়ে তোতলিয়ে লিমার গল্পটা আমাকে বলল। গল্পটা আমার জানা থাকলেও না জনার ভান করে মন দিয়ে শুনলাম। শেষে ছোট্ট একটি হাসির গল্প লিমার গল্পের প্রতি উত্তরে বললাম। তারা শুনে খুব উৎফুল্ল হল। সুমাইয়া লাফিয়ে উঠে বলল,
-আমি এখনই লিমা আন্টিকে কাক্কুর গল্পটি বলব।
আমি বললাম,
-না, তোমার আন্টি এ গল্প শুনলে বিরক্ত হবেন।
-হু, আন্টি গল্পের জন্য পাগল।
তারা দৌড়ে লিমাদের বাড়ির দিকে চলে গেল। বালিশটা টেনে নিয়ে শুয়ে পড়লাম। অনেকক্ষণ পর্যন্ত ঘুমানোর চেষ্টা করেও ব্যার্থ হলাম। আছরের আযান পড়লে বাজারে যাবার জন্য উঠলাম। হান্নানের বাড়িতে গেলে তার মা বলল, সে বাজারে চলে গেছে। সন্ধ্যার পর কিছু জিনিস নিয়ে বাড়ি আসলাম। 

পর্ব- ১৬

Author:luckyrazob

Leave a Reply