Home লাকী রজব • আলো ছায়া : পর্ব- ১৪

আলো ছায়া : পর্ব- ১৪

13935059_1066781130044274_1004237236028534075_n

সূর্যদেবের আগমনী বার্তায় পূর্বাকাশ ফরসা হয়ে উঠল। বিছানার সঙ্গ ছেড়ে দিয়ে সকালবেলার কাজ সারলাম। তখনও কেউ ঘুম থেকে ওঠেনি। বাড়ির দক্ষিণ পূর্র্ব কর্ণারে একটা আমগাছ বাঁকা হয়ে আছে। সেখানে গিয়ে বসে কিছুক্ষণ আগে দেখা স্বপ্নটার কারণ ও ফলাফল আবিষ্কার করছি। কারণ যাই হোক না কেন, ফলাফল হল এই যে, গতরাত্রে যে একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম হৃদয় চোরের উদ্দেশ্য বয়ান পেশ করার তা এখন চূড়ান্ত ও অত্যাবশ্যকীয় কাজে পরিণত হয়ে গিয়েছে।

এ বাড়িতে এসে কখনও এত সকালে বিছানা ছেড়ে উঠিনি। আজ এই বিশাল মাঠের ওপার থেকে সূর্য ওঠার দৃশ্যটা খুব ভাল লাগল। মৃদুু মৃদু বাতাস বইছে। দূরে পাখির কণ্ঠ শোনা যাচ্ছে। ততক্ষণে শরিফের মা-বাবা উঠে পড়েছে, তারা নিয়মিত নামাজ পড়ে। আমি অবশ্য আগে পড়তাম, এই ভবঘুরে হওয়ার পর থেকে আর হয় না।

প্রামাণিকের বাড়ির দিকে তাকাতে মনের মধ্যে দমকা হাওয়া লাগল। দেখি, লিমা সুমাইয়া হাত ধরাধরি করে বাড়ির ভিতর থেকে বেরিয়ে আসছে। লিমা যে নিয়মিত নামায পড়ে তা তার ব্যাবহারেই প্রকাশ পায়। দমকা হাওয়ার উৎপত্তির দিকে আবার তাকাতে এবার ঝড় শুরু হল। সুমাইয়ার পেছন পেছন লিমা আমার দিকে আসছে। ভয় হল, না জানি স্বপ্নের ফুলটা এখন ফেরত চায়! একবার সেদিকে তাকিয়ে অন্যদিকে চোখ ঘুরিয়ে নিলাম। যদিও এ কাজটা করতে আমার বিবেকের সাথে মনের প্রচণ্ড লড়াই বেঁধেছিল। আবার ঘুরে তাকাতে লিমার চোখে চোখ পড়ল। সুমাইয়া বলল,
-কাক্কু এখানে বসে কি করছেন?
-এইতো বসে আছি, তুমি কোথায় যাও?
-এখানেই।
বলতে বলতে এসে আমার কোলে উঠল। লিমা কিছু না বলে শরিফদের বাড়ির ভিতর চলে গেল। সুমাইয়া বলল,
-কাক্কু আপনে সেদিন ফাতেমার খাতায় অঙ্ক করে দিছিলেন, আপনার লেখা খুব সুন্দর। আমি আপনার করা অঙ্কগুলো করেছিলাম।
তার কাছ থেকে জানতে পারলাম সে তার মাকে দাদীকে আমার প্রশংসা স্বরুপ ওই অঙ্ক করে দেওয়ার কথা বলেছে। লিমা বাড়ির ভিতর গিয়ে ফাতেমাকে ডেকে তুলল। সাহেরার সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় কিছু আলাপ করল। তার এ সময় এ বাড়িতে আসার প্রকৃত কারণ সম্বন্ধে আমার খুব রহস্য জাগল। আবার ভাবলাম, এমনিতেও তো আসতে পারে কিন্তু সচারচার তো আসে না। ফাতেমা বই খাতা নিয়ে লিমার সাথেই আসল। যাঃ আজ আর লিখা হল না। লিমা সুমাইয়াকে ডাক দিয়ে আমার দিকে আড় চোখে তাকিয়ে তাকালো। আমি আহাম্মক সোজা চোখেই একদৃষ্টে তাকিয়ে রইলাম। কিছু বলতে চেয়ে পূর্বের মত অবস্থা হল। সে আমার সামনে দিয়ে বাড়িতে চলে গেলে আমি উঠে পড়লাম। আব্বাস মিয়ার সঙ্গে বসে পন্তা ভাতের সাথে কাঁচা মরিচের স্বাদ নিলাম। আব্বাস মিয়া বলল,
-আজ আমিনুলদের বাড়ির পেছনের জমিটা চাষ দিতে হবে।
আমাকে জমিতে যেতে বলে সে কামলার খোঁজে বের হল। ভাবলাম, একটু ঢিলেমি করে যাব, যখন লিমা কলেজে যেতে বের হবে। শরিফের মায়ের সঙ্গে গল্প করতে লাগলাম, উদ্দেশ্য আটটা বাজা। দেরি করে গেলেও ক্ষতি নেই, আজ মাত্র এক বিঘা জমি চাষ দিতে হবে। শরিফ আরেকটা ছেলের সঙ্গে খেলতে বের হচ্ছে দেখে তার মা বলল,
-স্কুলে যাবি নারে?
-আজ না শুক্রবার স্কুল বন্ধ।
-অঃ
শুক্রবারের কথা শুনে সাহেরার সাথে আর কথা না বাড়িয়ে ময়লা চিটচিটে ক্যাপটা মাথায় চড়িয়ে মেশিন স্টার্ট দিলাম। সদর রাস্তা দিয়ে জমিতে যেতে হলে প্রামাণিকের খোলা দিয়ে রাস্তায় উঠতে হয়। প্রামণিকের বাড়ি বরাবর যেতে লিমা ফাতেমাকে এগিয়ে নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে আসল। আমি সেদিকে তাকাতে সুমাইয়া বলল,
-কাক্কু দাঁড়ান।
সে দৌড়ে আমার কাছে এসে বলল,
-লিমা ফুফু আমাদের আজকে আপনার মত সুন্দর একটা গল্প বলেছে।
-আমারে বলবা না?
-তাহলে এই ফটফট বন্ধ করেন।
বলে সে কানে আঙ্গুল দিল।
-না এখন ক্ষেতে যাচ্ছি পরে শুনবনে। তোমাদের আজ তাড়াতাড়ি ছুটি হল নাকি?
-হ্যা। ফুফু পড়াতে পড়াতে হটাৎ বলল, যা আজ তোদের ছুটি।
লিমার দিকে তাকাতে দেখলাম, রহমত বাড়ি থেকে বের হয়ে আসছে আর লিমা ভিতরে চলে যাচ্ছে।

পর্ব- ১৫ 

Author:luckyrazob

Leave a Reply