Home লাকী রজব • আলো ছায়া : পর্ব- ১২

আলো ছায়া : পর্ব- ১২

snap-2016-12-11-at-22-41-53

আব্বাস মিয়ার একটাই চিন্তা, যদি আর কেউ বেঁধে ফেলে। জায়গাটাও অল্প।
সে খাপালটা আব্বাস মিয়ার দৃষ্টিগোচর হতে তার উৎসাহের মুখে চুনকালি পড়ল- হায়রে হায় বাড়িত গিয়ে বুঝি জায়গাটা হারালাম। শরিফের উৎসাহ সবচেয়ে বেশি। তার হাবভাবে মনে হল, সে কারও সঙ্গে মারামারি করে হলেও মাছ মারবেই মারবে। এর আগে একদিন সেখান থেকে সে প্রচুর মাছ পেয়েছিল। সে দৌড়াতে দৌড়াতে সেখানে চলে গেল। আমরা গিয়ে দেখলাম, আব্বাস মিয়ার ধারণাটা একেবারে ঠিক নয়। দুটো ন্যাংটা ছেলে একা কোণায় বাঁধা সামান্য জায়গার পানিহাত দিয়ে সেচছে। আব্বাস মিয়া চোখের পলকে যে জায়গায় সবচেয়ে বেশি মাছ সে জায়গাটা বেঁধে ফেলল, অবশ্য এর আশেপাশেও মারবে। পানি সেচে মাছ ধরতে লাগলাম। আমার ছোটবেলার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বেশি মাছ ধরলাম আমি। মাছের নেশা বড় নেশা। মাছ ধরতে ধরতে বেলা বারটা বেজে গেল তবু ক্ষুতপিপাসার খোঁজ পেলাম না। আরো অনেকে সেখানে মাছ ধরতে আসলো কিন্তু কেউই আমাদের মত সুবিধা করতে পারল না। সাড়ে বারোটা একটার দিকে ডিস, পাতিলে করে প্রায় পাঁচ সাত কেজির মত মাছ ধরে নিয়ে বাড়ি ফিরলাম। গতরাত্রে যে অমূল্য রতন শরীর থেকে ধুয়ে ফেলে দিয়েছিলাম আজ তাই আবার পর্যাপ্ত পরিমাণে গায়ে জমেছে। গোসল করে ভাত খেতে গিয়ে বুঝলাম, সকালবেলার মাছ সাহেরা বেশি পরিমাণ রহমতের মাকে দিয়ে বাকিগুলো রান্না করেছে। আমরা খেতে বসলাম আর বাইরে উঠানে শরিফের মা, রহমত আলীর মা, বউ মাছগুলো পরিষ্কার করেছে। লিমা কলেজ থেকে এসে ব্যাগটা রেখে সোজা এখানে চলে আসল। মাছ দেখে অবাক হয়ে বলল,
-এত মাছ কোথা থেকে ভাবি?
-ঐ বিল থেকে মেরে এনেছে।
শরিফ ভাত খাচ্ছিল। হটাৎ সে বলে উঠল,
-ডাইভার কাকায় সবচেয়ে বেশি মাছ ধরেছে।
এ কথা শুনে লিমা ঘরের ভিতর আমার দিকে তাকালো। আমিও তাকাতে চোখে চোখে সংঘর্ষ লাগল। এর ফলে যে দুর্লোভ আগুনের ফুলকি ছিটল তাতে আমার পেট নিমেষে ভরে গেল। ভাত মাছ গলার নিচে যেতে বিদ্রোহ ঘোষণা করল। এতবেলা না খেয়ে থেকেও হাফ প্লেট ভাত খেয়ে উঠে পড়লাম। আব্বাস মিয়া বলল
-কি আর ভাত নিলা না?
-না। আর ভাল লাগছে না।
সাহেরা বাইরে থেকে শুনে বলল,
-এত বেলার না খাওয়া তো তাই।
লিমা এটুকো শুনতে শুনতে সেখান থেকে সেখান থেকে চলে গেল। বিকালবেলা টিলার নিয়ে মাঠে গেলাম কিন্তু ভাল লাগল না। মন শুধু বাড়ির দিকে চলে আসে। মনকে আর ধরে রাখতে না পেরে সন্ধ্যার আগে আগে বাড়ি ফিরে আসলাম। রাতেও কোনমত খাওয়া সেরে উঠে পড়লাম। এবার সাহেরা বলল,
-কি ভাই শরীর খারাপ নাকি, কি হয়েছে?
আমি মুখে বললাম,
-না, কিছু হয় নাই।
মনে মনে বললাম
-না, কিছু হয় নাই।
মনে মনে বললাম, মনটা খারাপ হৃদয়টা চুরি হয়েছে।
বিছানায় শুয়ে শরিফ মাছ মারার অনেক রকমের গল্প করল। আমার কিছুই ভাল লাগল না, শুধু হু, হা বলে কাটিয়ে দিলাম। সে ঘুমিয়ে গেলে সিদ্ধান্ত নিলাম, কাল যে কোন উসিলাতে ফাতেমার খাতা নিয়ে আমার হৃদয় চোরের উদ্দেশ্য কিছু বয়ান পেশ করব। কিন্তু চোরের অবস্থান আর নিজের অবস্থান চিন্তা করে খুব ভয় লাগে ।

পর্ব- ১৩

Author:luckyrazob

Leave a Reply