Home লাকী রজব • আলো ছায়া : পর্ব- ১০

আলো ছায়া : পর্ব- ১০

13902805_1060696033986117_4704743398901576437_n

সন্ধ্যাবেলা কোন থেকে যেন প্রাইভেট পড়ে আসল। আমি ডাক দিলে অনিচ্ছা সত্ত্বেও এল। তাকে সেই ছোটকালের স্মৃতি মনে করিয়ে দিয়ে বিয়ের কথা বললাম। ও শুধু বলল,
-বাবা মা আছেন, পরে দেখা যাবে।
তারপর থেকে আমার রাত দিনের জপমালাই ‘ইয়াসমিন’।
একদিন শুনলাম, ইয়াসমিন কোথাকার এক ছেলের সাথে লাইন করছে। খুব তাড়াতাড়ি বিয়ে হয়ে যাবে। এ কথা শুনে আমার মাথার উপর সাত আসমান ভেঙে পড়ল। ভাবলাম, হায়রে হায়! এর জন্যেই আমি চোখের ঘুম হারাম করছি। আমার অবস্থায়, ছোটবোনের পীড়াপীড়িতে মা একদিন ছেঁচাবুচো হয়ে মামার বাড়ি গেল। আমার আরেক মামিকে দিয়ে ইয়াসমিনের মাকে প্রস্তাব দিল। শুনে ওর মা তেলে বেগুনে জ্বলে উঠল,
-বামুনের ঘরে জন্ম নিয়ে চাঁদের দিকে হাত বাড়ায়। বরং আমার মাকে পরের শুক্রবারে বিয়ের দাওয়াত দিয়ে দিল। মা ফিরে এসে আমাকে কিছুই বলল না। একদিন খবর শুনলাম, আসলেই ইয়াসমিনের বিয়ে হয়ে গেছে রে ভাই হয়ে গেছে—।
বলতে বলতে সে ডুকরে কেঁদে উঠল। আমি তাকে তুলে দিয়ে বললাম,
-কোঁদো না ভাই কেঁদো না, দুনিয়ার রীতিই এই। কিছুক্ষণ পর জিজ্ঞাসা করলাম,
-এখন বিয়ে শাদি করেন নাই?
-হ্যা। করছি, একটা মেয়ে হয়েছে , ছয়মাস বয়স।
-আচ্ছা, কেমন হল মিয়া, গল্প করতে করতে তো বেলা শেষ হয়ে গেল।
-হ, মেশিন চালু কর। আর মিয়া, আমার জীবনের এই কাহিনী কিসের জন্য তোমারে শুনালাম, তা কি কিছু বুঝতে পারছো?
-হ্যা, পারছি।
-তাহলে, যাই কর ভেবে চিন্তে করো ভাই। একেই তো বড়লোকের মেয়ে, তারপরে করে আবার ন্যাকাপড়া।
সে একটু তিরষ্কারের হাসি হাসল। কিন্তু তার মনে এখনো সেই ইয়াসমিন পাবর্তীর কাহিনী শোকের ঢেউ খেলছে। কতক্ষণ পর তার দিকে তাকিয়ে দেখলাম ভাবতে ভাবতে মাথার নিচে হাত দিয়ে ঘুমিয়ে পড়েছে। আছরের আযান পড়লে জমি চাষ দেয়া শেষ হল। তাকে ডেকে তুলে নিয়ে বাড়ি আসলাম। গোসল খাওয়া দাওয়া করে হান্নান মিয়ার সাথে করিমগঞ্জের হাটে গেলাম সেলুনের ঘরে। তার সাথে এ কদিনেই অন্তরঙ্গ মিল হয়ে গিয়েছে। সরল সোজাই লোকটি।
একটি লুঙ্গি, একজোড়া স্যান্ডেল কিনে নিয়ে সন্ধ্যার পর বাড়ি আসলাম। ফতেমা, সুমাইয়া মাতৃত্বের দাবিদার দুই সম্মানী মহিলার জন্য কিছু চকলেট বিস্কিট নিয়ে আসলাম, শরিফও বাদ পড়লো না। রাত্রে শুয়ে হান্নান মিয়ার জীবন কাহিনীর সঙ্গে আমার জীবন ইতিহাসের মিল খুজতে লাগলাম। কিন্তু কিছুতেই মিল ফেলতে পারলাম না। কারণ, হান্নান মিয়ার প্রেমকাহিনী যেখানে শেষ, আমার প্রেম কাহিনী সেখান থেকে কেবল শুরু।
গতরাত্রে অনেককাল পরে শ্যাম্পু সাবান দিয়ে গোসল করে শুয়েছিলাম, তাই সকালবেলা উঠতে দেরি হয়ে গেল। সাবান দিয়ে গোসল করার পর নিজেকে সোলার মত পাতলা বলে মনে হল। আহারে! এতদিনে শরীরে জমানো অমূল্য রতনগুলি সাবান পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলে দিলাম। এই ভেবে মনের মধ্যে হাসি পেল । অবশ্য এরকম রত্ন বাংলার প্রতিটি কৃষকের গায়েই অফুরন্ত। যা যমদূতের আগমনী বার্তার পূর্ব পর্যন্ত তাদের সোনার শরীরে চুম্বকের কণার মত জমতেই থাকে। 

পর্ব- ১১

Author:luckyrazob

Leave a Reply